আদার কিছু ভাল ও খারাপ গুণ

আদা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য উপাদান। বিভিন্ন তরকারীতে আদা কম বেশি ব্যবহার করা হয়। এর যেমন উপকারিতা আছে, তেমনি অনেক অপকারিতাও রয়েছে। আদার অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে।
* আদার ভালো গুণ সম্পর্কে আগে জেনে নেই: 

# আদা গ্যাসের সমস্যা দূর করে
যখনই গ্যাসের সমস্যা হবে তখনই আদা দিয়ে এক কাপ চা খেয়ে নিন। আদা কুচি করে কেটে হালকা লবণ এর সাথে চিবিয়ে খাবেন। গ্যাস এর সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
# আদা ব্যাথা দূর করে
বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে, মাইগ্রেন এর প্রথম ধাপ থেকেই আদা খাওয়া শুরু করলে এর জীবাণুগুলো সংক্রমণ করা থেকে বিরত থাকে। এছাড়াও যারা সবসময় আদা খাবার অভ্যাস করে তাদের তুলনামূলক কম ব্যাথা থাকে শরীরে।
# আদা ক্যান্সার রোধে সহায়তা করে
বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে,আদা ক্যান্সার সংক্রমণের রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে। মানুষের কোলন ক্যান্সার এর জীবাণু-সমূহ আদা নষ্ট করে দেয়। তাই, আদা অনেক সাহায্যকারী আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য।
# আদা বমি বমি ভাব দূর করে
বমি বমি ভাব হলেই আদা খাবেন। আদা হোক আর আদার চকলেট, সিরাপ, আদার রসই হোক না কেন যেকোনো একটি খেলেই বমি ভাব দূর হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে অবশ্যই চেষ্টা করে দেখবেন।
# রক্তচাপ কমে
একটি নতুন গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, আদা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে ফেলে। যাদের ডাইবেটিক এর সমস্যা আসে তারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে আদা খাওয়া শুরু করতে পারেন। এতে আপনার ইনসুলিন এর ব্যবহার কমে যাবে।
# রক্তজমাট রোধ করে
অস্ট্রেলিয়ান এক গবেষণায় দেখা গেছে, আদা শরীরের রক্তজমাট দূর করতে সাহায্য করে। রক্তের জীবাণু দূর করতে এর জুড়ি নেই।

* আদার খারাপ গুণ:
# গর্ভবতীদের জন্য ভালো নয়
আদা ও গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে গবেষণাকালে মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে। এক গবেষণা মতে, আদার ফলে গর্ভপাত ও বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। আরেক গবেষণা মতে, আদার ফলে বমি বমি ভাব দূর হয়। তাই আদা খাওয়া ভালো।
# দাঁতের প্রদাহ বৃদ্ধি পায়
আদা একটি প্রাকৃতিক ঔষধ যা আমাদের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দেয়। আদার জন্য শরীরে গরম বৃদ্ধি পায়। কাশি কমাতে আমরা আদা খেয়ে থাকি তবে, এর ফলে আমাদের দাঁতে আদা ক্ষতি করে। মুখ ও দাঁতে প্রদাহ বৃদ্ধি পায় আদার ফলে।
<! –– আদার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম,আদার উপকার ও ক্ষতি, আদার উপকারিতা, আদা ও মধু খাওয়ার উপকারিতা,আদার ক্ষতিকর দিক,আদা খেলে কি ক্ষতি হয়,আদা খাওয়ার কুফল ––>

খাওয়ার পর যে কাজগুলো একেবারেই করা উচিত নয়

আমরা যা খাই, তার প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরে। সঠিক নিয়ম মেনে সঠিক খাবার খেলে যেমন স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, তেমনই নিয়ম না মেনে ভুলভাল খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়।
আসুন জেনে নেয়া যাকা খাওয়ার পর কোন কাজগুলো করা কখনোই উচিত নায়-
১. কথায় বলে ভরা পেটে ফল, খালি পেটে জল। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে এটি একেবারেই উচিত নয়। ভরা পেটে কখনোই ফল খাবেন না। খালি পেটে ফল খেলে তবেই তার খাদ্যগুণ আমাদের শরীরে শোষিত হয়। তাই খাওয়ার বেশ কিছুটা সময় পরে ফল খান। খাবার খেয়েই ফল খেলে হজমের সমস্যাও দেখা দেয়।
২. খাওয়ার পরেই আমাদের অনেকেরই ঘুম পায়। তাই খেয়ে উঠেই বিছানায় ঢুকে পড়তে আমরা বেশ পছন্দ করি। কিন্তু এটা অত্যন্ত খারাপ অভ্যেস। খেয়ে উঠেই শুয়ে পড়লে ওজন তো বাড়বেই হজমের সমস্যাও দেখা দেবে। তাই খেয়ে উঠে অন্তত এক ঘণ্টা পরে বিছানায় যান।

৩. খাবার পরেই অনেকে ধূমপান করেন। কিন্তু জানেন কি ভরা পেটে স্মোক করলে তা শরীরের বেশি ক্ষতি করে? ভরা পেটে ধূমপান করলে ইনটেসটাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. পেটভর্তি করে খেয়ে অনেকেই কোমরের বেল্ট একটু হালকা করে নেন। এটিও কিন্তু খারাপ অভ্যেস। প্রথম কথা কখনোই পেট এতটা ভর্তি করে খাওয়া উচিত নয়, যাতে কোমরের বেল্ট হালকা করতে হয়। এই অভ্যেস থাকলে আপনার অতিরিক্ত খাওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে না। আর অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়বে, সঙ্গে হজমের সমস্যাও দেখা দেবে।
৫. পানি খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু খেয়ে উঠেই পানি পান করবেন না। খাবার খেয়েই পানি খেলে তা হজমে সহায়ক গ্যাসট্রিক রসকে হালকা করে দেয়। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হতে চায় না। এর ফলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই রকমই খেয়ে উঠেই চা বা কফি খাওয়া ঠিক নয়।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার কারণ

শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের পুষ্টির জন্য সুষম খাবার অত্যন্ত জরুরি। মস্তিষ্ক সঠিক পুষ্টি না পেলে অনেক ক্ষেত্রেই স্মৃতিভ্রমসহ আরও নানান সমস্যা দেখা দেয়। তবে খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও আরও বেশ কিছু কারণে দুর্বল স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কম ঘুমঃ নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুম না হলে বা ঘুমে বারবার ব্যঘাত ঘটলে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না ফলে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘদিন এমন চললে এর ফলাফল হতে পারে দুর্বল স্মৃতিশক্তি। যা থেকে আলৎঝাইমার’স হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পরিবেশ দূষণঃ ২০১৭ সালের এক গবেষণায় জানা যায়, দীর্ঘদিন দুষিত এলাকায় যারা বসবাস করেন তাদের স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি থাকে। দূষিত পরিবেশের বাতাসে যে পদার্থগুলো থাকে তা শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে যা থেকে টক্সিসিট ও আলৎঝাইমার’স রোগের সূত্রপাত হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসঃ একবারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া এবং অনেক দেরি করে খাবার খাওয়া, দুটি অভ্যাসই মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। টানা ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে রাতের খাবার এবং সকালের নাস্তার মধ্যকার সময়ের পার্থক্যও বেশ উল্লেখযোগ্য। তাই সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
একাকিত্বঃ যারা একাকিত্ব অনুভব করেন অথবা সমাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন তাদের আলৎঝাইমার’স হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বয়সের সাথে সাথে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়।
অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, ভুলেও খাবেন না যে খাবার

অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, ভুলেও খাবেন না যে খাবার

লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি'। ভিটামিন 'সি' দাঁত ও চুল ভালো রাখে। এ ছাড়া গরম পানিতে লেবু খেলে ওজনও কমে।
তবে অতিরিক্ত খাওয়া মোটেও উচিত নয়। কারণ কিছু দিন যেতেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। গরম পানিতে লেবু খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, ক্ষুধামন্দা, বমিসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।
আসুন জেনে নিই গরম পানিতে লেবু খেলে যেসব ক্ষতি হয়-
১. অতিরিক্ত লেবু পানি খেলে অ্যাসিডিটি থেকে বমি হওয়া, পেট ফেঁপে যাওয়া, শরীর শুকনো হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. গরম পানিতে লেবুর রস খেলে বারবার প্রস্রাব হতে পারে। ফলে ইলেকট্রোলাইটস ও সোডিয়াম দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।

৩. লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে। অতিরিক্ত লেবু খেলে সাইট্রিক অ্যাসিড থেকে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়, সফট ড্রিংক খেলে দাঁতের যেসব ক্ষতি হয়, গরম পানিতে লেবু খেলেও একই ধরনের ক্ষতি হয়
৪. খালি পেটে লেবু পানি ভুলেও খাবে না। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক পেপসিন ভেঙে যায়। পেপসিন আমাদের হজমে সাহায্য করে। লেবুর মধ্যে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পেপসিনকে ভেঙে ক্ষতিকর এনজাইম তৈরি করে। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না।
৫. অতিরিক্ত ভিটামিন 'সি' রক্তে আয়রনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়।
৬. মাইগ্রেনের সমস্যায় লেবু জাতীয় ফল না খাওয়া ভালো।
Deshebideshe.com
দশ উপায়ে ফজরে অলসতা দূর করুন

দশ উপায়ে ফজরে অলসতা দূর করুন

,
নামায ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোন ব্যক্তির ঈমান আনার সাথে সাথেই তার উপর যে ইবাদত সর্ব প্রথম ফরয হয়, তা হলো নামায। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের মাধ্যমে একজন মুসলমান তার বিশ্বাসের সাক্ষ্য প্রদান করে।
ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও এশা; এই পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের মাধ্যমে একজন মুসলমান দিনে পাঁচবার নিজের বিশ্বাসের স্বীকারোক্তি ও তার উপর আল্লাহর প্রদত্ত দায়িত্বকে স্মরণ করে নেয়।
যোহর থেকে এশা পর্যন্ত মোট চার ওয়াক্তের নামায যথাসময়ে আদায় করতে আমাদের তেমন সমস্যা হয় না। অনেকটা সহজেই আমরা তা আদায় করে নিতে পারি। কিন্তু ফজরের নামায যথাসময়ে আদায় করতে আমাদের অনেককেই বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। যথাসময়ে ঘুম থেকে উঠতে না পারার কারণে আমাদের প্রায়ই ফজর কাযা হয়ে যায়।
ভোরে সুবহে সাদিকের মুহূর্ত থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘন্টা সময় ফজরের নামায আদায়ের নির্ধারিত ওয়াক্ত বা সময়। কিন্তু নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে আমাদের অনেকেরই কষ্ট হয়।
প্রধানত আমাদের অলসতার কারণেই আমরা যথাসময়ে ফজরের নামায আদায় করতে পারি না। আমাদের অন্যান্য জরুরী কাজের মত যদি আমরা প্রতিদিন ফজরের নামায আদায়কে গুরুত্ব দিতে পারি, তবে আমাদের যথাসময়ে ফজরের নামায আদায় করতে কোন ত্রুটি হতো না।
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,
لَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا
“লোকে যদি জানতো যে ইশার নামায ও ফজরের নামাযের কি পুরস্কার রয়েছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা নামায আদায় করতে আসতো।” [মুসলিম, হাদীস নং: ১০৮৮]
হযরত আবু যুহাইর উমারাহ রুওয়াইবা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন,
لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ ، وَقَبْلَ غُرُوبِهَا
“যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বের নামায (ফজর) ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামায (আসর) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।” [মুসলিম, হাদীস নং: ১০৪৯]
সুতরাং, এত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদান থাকা সত্ত্বে ফজরের নামায আদায়ে আমাদের কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
নিম্নে ফজরের নামায আদায়ে সহায়ক ১০টি পরামর্শ পেশ করা হল–
১. আপনি যদি ফজরে উঠতে দৃঢ় ইচ্ছা করেন তবে কখনোই রাত জাগবেন না। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন যাতে করে একদিকে আপনার ঘুমও পূর্ণ হয়, অন্যদিকে যথাসময়ে ফজরের জন্য উঠতে পারেন। রাসূল (সা.) এশার নামাযের পরপরই ঘুমাতে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বিজ্ঞানও এই অভ্যাসের যথার্থতার প্রমাণ প্রকাশ করেছে।

২. ঘুমাতে যাওয়ার আগে অযু করে নিন। যদি আপনি পবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যান, তবে ফেরেশতারা আপনার ঘুম থেকে জাগার আগ পর্যন্ত আপনার জন্য দুআ করতে থাকবে।
৩. ডান কাত হয়ে ঘুমান। রাসূল (সা.) ঘুমানোর সময় ডান কাত হয়ে ডান হাতকে ডান গালের নিচে রেখে ঘুমাতেন। রাসূল (সা.) এর অনুকরণে ঘুমের জন্য শোওয়ার এই অবস্থা একদিকে যেমন ঘুমের জন্য সহায়ক, অন্যদিকে ফজরে যথাসময়ে ঘুম থেকে ওঠার জন্যও কার্যকর।
৪. আল্লাহর কাছে আন্তরিকতার সাথে বেশি বেশি দুআ করুন, যাতে আল্লাহ আপনাকে যথাসময়ে ফজরের নামায আদায়ে সামর্থ্য ও শক্তিদান করেন। আল্লাহর কাছে যদি আপনি আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করতে পারেন, তবে আল্লাহও আপনার প্রার্থনাকে কবুল করবেন।
৫. ঘুমাতে যাওয়ার সময় কুরআন থেকে কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে নিন। বিশেষ করে সূরা সাজদাহ, সূরা মুলক, সূরা ইসরা, সূরা যুমার, সূরা কাহাফের শেষ চার আয়াত, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ইত্যাদি এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
৬. একাধিক অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন। আওয়াজ যত বেশি হবে, ততই ভালো! অ্যালার্ম ঘড়ি হাতের কাছে বা বিছানার পাশে না রেখে দূরে রাখুন, যাতে করে আপনাকে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে ঘড়ি বন্ধ করতে হয়। এতে ঘুম থেকে ওঠার পাশাপাশি আপনার নিদ্রার ভাব কাটার জন্যও সহায়ক হবে।
৭. পরিবারের সদস্যদের বলুন, যদি তারা উঠতে পারে তবে যেন ডেকে দেয়। তেমনিভাবে আপনি উঠতে পারলেও তাদের ফজর নামাযের জন্য ডেকে দিন।
৮. ফজরের নামায আদায়ে যথা সময়ে ওঠার জন্য বন্ধুদের কাছে সাহায্য চাইতে পারেন। যদি তারা উঠতে পারে, তবে তারা যেন ফোন কলের মাধ্যমে আপনাকে ফজরের জন্য ডেকে দেয়। তেমনি আপনিও আপনার বন্ধুদের ফজরের নামায আদায়ে সাহায্য করুন।
৯. নিজেকে পুরস্কার দিন। যদি আপনি ফজরে উঠতে পারেন, তবে আপনার প্রিয় ফ্লেভারের কফি বা চকলেট দিয়ে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।
১০. বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ঘুম দেড় ঘন্টার একটি চক্র অনুসরণ করে। সুতরাং, আপনি যদি দেড় ঘন্টা বা এর গুণিতক সময় যথা তিন ঘন্টা, সাড়ে চার ঘন্টা বা ছয় ঘন্টা ঘুমান, তবে আপনি ক্লান্তিহীনভাবে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন। তা না হলে আপনি যত সময়ই ঘুমান না কেন, আপনার ক্লান্তি দূর হবে না। সুতরাং, আপনি যদি রাত বারোটায় ঘুমাতে যান এবং ফজরের সময় যদি পাঁচটার দিকে হয়, তবে সাড়ে চারটার দিকে অ্যালার্ম দিন। ঘুমের চক্র পরিপূর্ণ হও
Poriboton.com
গর্ভাবস্থায় যে ৭ খাবার নিরাপদ

গর্ভাবস্থায় যে ৭ খাবার নিরাপদ

একটি শিশু মায়ের গর্ভে আসার পর থেকেই শুরু হয় মায়ের দায়িত্ব। অনাগত সন্তান ও নিজের সুস্থতার জন্য সবরকম সচেতনতা থাকতে হবে। নিরাপদ ও সঠিক খাবার খাওয়া এই সচেতনতারই অংশ।
সঠিক খাবার বা পুষ্টিগুণ না পেলে মায়ের পাশাপাশি শিশুর বিকাশে সমস্যা দেখা যায়। তাই অবশ্যই জেনে রাখা দরকার কী কী খাওয়া উচিত এই সময়। অনেকেই না বুঝে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে শরীর ঠিক রাখতে চান। চলুন জেনে নেয়া যাক হবু মায়ের জন্য নিরাপদ এমন সাত ধরনের খাবারের কথা-
দুগ্ধজাত খাবার: দুগ্ধজাত খাবারে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম। যা শরীরের গঠনে সাহায্য করে। এর সাথে থাকে জিংক, ম্যাগনেসিয়াম। দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে সব থেকে বেশি ভালো দই। এই দই হজম ক্ষমতা ঠিক রাখে। সাথে প্রবায়োটিক থাকার জন্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শরীরে বাসা বাঁধতে পারে না।
ফাইবার: প্রোটিন সমৃদ্ধ যেকোনো ধরনের ডাল খাওয়া এই সময় একান্ত দরকার। সাথে মটরশুটি, সয়াবিন খেতে হবে কারণ এতে আয়রনের সাথে অন্যান্য দরকারি ভিটামিন ও উপাদান থাকে। সিম জাতীয় খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। এদের অনেকের মধ্যেই ভিটামিন এ থাকে যা শরীরের বিকাশে এবং গঠনে সাহায্যকারী। এতে জন্মের পর অনেক সময় বাচ্চা কম ওজনের হওয়া থেকে মুক্তি পায়।
মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলুতে প্রচুর বেটা ক্যারোটিন থাকে যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ তৈরি হয়। ভিটামিন এ শরীরের কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ভিটামিন এ খাওয়া জন্যে অবশ্যই উদ্ভিজ উৎস বেছে নেওয়া ভালো।

ডিম, সামুদ্রিক মাছ, মাংস: সামুদ্রিক মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা শরীরের জন্যে দরকারি। এটি মস্তিষ্ক এবং চোখের উপকারে লাগে। তবে সপ্তাহে দুদিনের বেশি খাবেন না। এসময় ডিম খাওয়া প্রয়োজন। তবে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে যে ডিম যেন সম্পূর্ণ সিদ্ধ হয়। চিকেন বা মিট এই সময় খাওয়া যেতে পারে। তবে পরিমিত।
সবুজ শাক-সবজি: প্রতিদিনের খাবারে অবশ্যই সবুজ শাক সবজি রাখতে হবে। সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে থাকে। সাথে থাকে আয়রন, ফসফরাস, প্রাকৃতিক জিংক এবং ম্যাগনেসিয়াম। পাতাওয়ালা সবজি যেমন পুঁইশাক বা পালংশাক, ব্রকলি খাওয়া দরকার।
ফল: ভিটামিনের প্রাকৃতিক উৎস হিসাবে যেকোনো খাবারের মধ্যে ফল অন্যতম। লেবুতে ভিটামিন সি থাকে। আপেলে আয়রন থাকে। শরীরের দরকার অনুযায়ী ফল খাওয়া একান্ত দরকার। অনেকে ড্রাই ফ্রুট পছন্দ করেন। তাও বেছে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে না যায়।
পানি: পুষ্টিকর খাবার শুধু খেলেই হবে না। সেই পুষ্টিগুণ যাতে ঠিকভাবে হজম হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তাই প্রচুর পানি পান করতে হবে। চা বা কফি খেতে পারেন তবে পরিমাণ মেপে। কারণ অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে গেলে মা এবং শিশু দুজনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
Deshebideshe.com
সন্তানকে প্রথমেই যে কথা শেখাতে বলেছেন বিশ্বনবি (সা:)

সন্তানকে প্রথমেই যে কথা শেখাতে বলেছেন বিশ্বনবি (সা:)

হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশু সন্তানতে প্রথমে কালেমা শিক্ষা দেয়ার নসিহত পেশ করেছেন। কোমল হৃদয়ে তাওহিদের কালেমা শেখাতে পারলেই শিশুর জন্য তা হবে সার্থক ও সফল।
শিশুকে কথা বলা শেখানোর দায়িত্ব কিংবা শিশুর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় যিনি অতিবাহিত করার বিষয়টি দেখাশুনা করেন প্রত্যেক শিশু সন্তানের মা। এ কারণেই নেপোলিয়ান বলেছিলেন-
‘আমাকে একজন ভালো ‘মা’ দাও, আমি তোমাদের একটি ভালো জাতি উপহার দেবো।’
নেপোলিয়ানের চিন্তা দর্শনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিখ্যাত কবি আব্দুর রহমান আল –কাশগারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি প্রত্যেক ‘মা’কে শিশুর পাঠশালা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন-
‘হিজনুল উম্মাহাতি হিয়া আল মাদরাসাতু লিল বানিনা ওয়াল বানাত’ অর্থাৎ ‘মায়ের কোল বালক-বালিকাদের জন্য পাঠশালা স্বরূপ।’
শিশুদের চিন্তা-চেতনার বিকাশ সাধনে মা-এর ভূমিকা অত্যধিক। কেননা শিশুরা মা-এর সঙ্গেই বড় হয়। শিশুর সুশিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসও অর্জিত হয় মা-এর কাছে। তাইতো প্লেটো বলেছেন-
‘মা-এর শিক্ষাই শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের বুনিয়াদ।’

সুতরাং শিশুকে উত্তম শিক্ষা দেয়া প্রতিটি মানুষের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে নির্দেশ দিয়ে বলেন-
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।’
পরিবারের লোকদের এমন শিক্ষা দাও। যাতে সে অন্যায় পথে ধাবিত না হয়। ইসলামের সুমহান সত্য ও সুন্দরের সঙ্গে সন্তানকে গড়ে তোলা ঈমানের দাবি। শিশুকে কথা বলা শেখাতে হাদিসের উপদেশ হলো এমন-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা নিজ নিজ শিশুকে সর্বপ্রথম কথা শিখাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ (বায়হাকি, মুস্তাদরেকে হাকেম)
দুনিয়ার সব শিশুর কথা বলা শুরু হকো কালেমা পাঠের মাধ্যমে। আর তাতে শিশুর জন্য বয়ে আনবে কল্যাণ ও বরকত। এর মাধ্যমেই শিশু হবে বিশুদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাদের শিশু-সন্তানের কুরআন-হাদিসের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তম জীবন ব্যবস্থায় বড় করে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। কালেমার মাধ্যমে কথা বলা শুরু করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
Jagonews24
রসুন খেলেই যেসব রোগ ভ্যানিশ

রসুন খেলেই যেসব রোগ ভ্যানিশ

সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন। স্বাস্থ্যবিদদের কথা, এতেই নাকি ভ্যানিশ হবে অর্ধেক রোগবালাই! প্রতিদিনের অনিয়ম, যখন তখন ডায়েট ভাঙার কুপ্রভাব অনায়াসেই নাকি ঢেকে দিতে পারে এই সবজি।
সবকিছুতেই কি রসুনের অবাধ উপকার? দেখা যাক তাদের বিশ্লেষণ।
১. অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ঠাসা এই সবজি রক্তকে পরিশুদ্ধ রাখে। রক্তে উপস্থিত শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে রসুন।
২. শরীরকে ডিটক্সিফাই করার কাজে ওস্তাদ রসুন। সকালে খালিপেটে রসুনের কোয়া খেলে সারা রাত ধরে চলা বিপাক প্রক্রিয়ার কাজ যেমন উন্নত হয়, তেমনই শরীরের দূষিত টক্সিনও মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারে।

৩. ক্রনিক ঠাণ্ডা লাগার অসুখ যাঁদের রয়েছে, খালিপেটে এক কোয়া রসুন তাঁদের জন্য খুব উপকারী। একটানা দু’সপ্তাহ সকালে রসুন খেলে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা অনেকটা কমে।
৪. হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে রসুন বিশেষ কার্যকর। হৃদস্পন্দনের হার নিয়ন্ত্রণ করতে ও হৃদপেশীর দেওয়ালে চাপ কমাতে কাজে আসে এই সব্জি।
৫. রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে রসুন। কমায় রক্তবাহ নালীর উপর রক্তের চাপও। তাই উচ্চ রক্তচাপের অসুখে ভুগছেন এমন রোগীদের ডায়েটে থাকুক এই সব্জি।
৬. যকৃত ও মূত্রাশয়কে নিজের কাজ করতে সাহায্য করে রসুন। এ ছাড়া পেটের নানা গোলমাল ঠেকাতে, হজমের সমস্যা মেটাতেও রসুন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৭. কিছু ভাইরাস ও সংক্রমণজনিত অসুখ— যেমন ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, হুপিং কাশি ইত্যাদি প্রতিরোধে রসুনের ভূমিকা অনেক।
৮. স্নায়বিক চাপ কমিয়ে মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এই সব্জি।